Showing posts with label Shakib Khan. Show all posts
Showing posts with label Shakib Khan. Show all posts

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিন্দু

দীর্ঘ প্রতীক্ষাই বলা যায়। শাকিব খান ও বিন্দু জুটিবদ্ধ হয়ে পাঁচ বছর আগে ছবির শুটিং শুরু করেছিলেন। নানা প্রতিবন্ধকতা পার হয়ে আসছে ডিসেম্বরে তাদের অভিনীত ‘এই তো প্রেম’ ছবিটি মুক্তির মিছিলে রয়েছে। বলা যায়, এ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়েছেন তারা। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ ছবিটি পরিচালনা করেছেন সোহেল আরমান। এ চলচ্চিত্রে আরও অভিনয় করেছেন অমিত হাসান। এ প্রসঙ্গে পরিচালক বলেছেন, খুব শিগগিরই ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্রের জন্য জমা দেয়া হবে। এটি বিজয় দিবসে মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেভাবেই আমরা সব কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। শাকিব খান বলেন, অনেক দিন আগেই ছবিটি মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে ছবির কাজ শেষ হতে বিলম্ব হয়েছে। তবে ছবিটি সবার কাছে ভাল লাগবে। বিন্দু জানান, ‘এই তা প্রেম’ পুরোপুরি মুক্তিযুদ্ধের গল্পনির্ভর হওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় নিয়ে শুটিং করতে হয়েছে। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের টানা ৯ মাসের ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন চিত্র এ ছবিতে তুলে ধরতে হয়েছে। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে ছবির কাজ শেষ করতে পেরেছি। আশা করি, ছবিটি দর্শকদের ভাল লাগবে। ছবির গল্প সম্পর্কে জানা যায়, বিন্দু গ্রামের সহজ-সরল মেয়ে মাধবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। মাধবীর রূপ আর চঞ্চলতা একই গ্রামের ছেলে সূর্যকে (শাকিব খান) মুগ্ধ করে। অতঃপর তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। এরপরই শুরু হয় নানা টানাপড়েন। ২০০৯ সালের শেষের দিকে এ ছবির গানের অ্যালবাম বাজারে এসেছিল। এ অ্যালবামে হাবিব এবং ন্যান্সির গাওয়া ‘আমি তোমার মনের ভেতর একবার ঘুরে আসতে চাই’ গানটি বেশ শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। এদিকে, লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার পর বিন্দু তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন। এরপর তার আরও দুটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। ছবিগুলো হলো- ‘পিরিতের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ’ এবং ‘জাগো’। তবে আপাতত বিন্দু চলচ্চিত্র থেকে কিছুটা দূরে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি কোরবানির ঈদের নাটক- টেলিছবি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানিয়েছেন।

বিন্দুর 'এই তো প্রেম'

দীর্ঘ বিরতির পর বিন্দু অভিনীত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি 'এই তো প্রেম'র শুটিং শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে মানিকগঞ্জে এ ছবির শেষ অংশের দৃশ্যধারণ শুরু হয়। ছবিটি পরিচালনা করছেন সোহেল আরমান। মানিকগঞ্জে টানা পাঁচদিন ছবিটির শুটিং চলবে। বিন্দুর পাশাপাশি চিত্রনায়ক শাকিব খানও এ ছবির শুটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, 'সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। তাই আউটডোরে শুটিং করতে পারছি না। ছবির বেশিরভাগ অংশের শুটিং আগেই সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি, আগামী পাঁচদিনের মধ্যেই বাকিটুকুর শুটিং শেষ করতে পারব। আগামী বছরের শুরুর দিকে ছবিটি মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।' বিন্দু জানান, ২০০৯ সালে এ ছবির শুটিং শুরু হয়েছিল। মাঝে বেশকিছুদিন এর কাজ আটকে ছিল। আবারো শুটিং শুরু হওয়ায় তিনি দারুণ খুশি। এ ছবির গল্পে দেখা যাবে, পুরোহিতের মেয়ে মাধবী। তাকে ভালোবাসে একই গ্রামের স্কুল শিক্ষকের ছেলে সূর্য। মাধবীও একসময় সূর্যকে ভালোবেসে ফেলে। এরই মধ্যে একদিন গ্রামে ঢোকে পাকিস্তানি বাহিনী। একদিকে দেশ বাঁচানোর যুদ্ধ, অন্যদিকে একজোড়া মনের যুদ্ধ। পাকিস্তানি বাহিনী পুরোহিতকে হত্যা করে। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে মাধবীকে রেখে ছেলেটি চলে যায় যুদ্ধ করতে। এ ছবিতে মাধবী চরিত্রে অভিনয় করবেন বিন্দু। এটি বিন্দুর চতুর্থ ছবি। ছবিতে সূর্যের ভূমিকায় অভিনয় করছেন শাকিব খান।

'দেবদাস' নিয়ে গপ্পো

ভালো চলচ্চিত্র নিয়ে বরাবরই সেন্সর বোর্ড একটু বেশি মাতামাতি করে। তবে 'দেবদাস'-এর বেলায় এর মাত্রাটা যেন একটু বেশিই ছিল। চাষী নজরুল ইসলামের ছবি বলেই হয়তো এমনটা হয়েছে! কিছু অযৌক্তিক কারণে প্রায় ৯ মাস আটকে রাখা হয়েছিল রঙিন 'দেবদাস'কে। তবে আশার কথা হলো, মেঘ কেটে গেছে। আলোর দেখা পেয়েছে ছবিটি। অবশেষে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাচ্ছে নতুন 'দেবদাস'। গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চাষী নজরুল ইসলামের 'দেবদাস' ছবিটি সেন্সর বোর্ডে জমা পড়েছিল। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে অন্যান্য ছবির ভিড়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই ছবি দেখার জন্য সময় বের করতে পারেনি। অবশেষে ১৪ দিন অপেক্ষার পর ১৯ জানুয়ারি বিকেলে বোর্ডের সদস্যরা ছবিটি দেখেন। এতে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও মৌসুমীর অভিনয়ের প্রশংসা করেন তারা। শুধু তা-ই নয়, অনেকদিন পর সবাই একটি ভালো ছবিও দেখলেন জানিয়ে পরিচালককে সাধুবাদ জানান। এজন্য চাষী বেশ উৎসাহ পেয়েছিলেন। ভেবেছিলেন বিনা কর্তনেই এটি ছাড়পত্র পাবে। কিন্তু তা আর হয়নি। হঠাৎ বোর্ডের কিছু সদস্য বাদ সাধেন। চুনিলাল চরিত্রের অভিনয়শিল্পীর পোশাককে কেন্দ্র করে আটকে যায় 'দেবদাস। এই চরিত্রে অভিনয় করেন শহীদুজ্জামান সেলিম। তার গায়ে থাকা রঙিন কোট নিয়ে আপত্তি তোলে সেন্সর বোর্ড। তাই দৃশ্যগুলো কর্তন না করা হলে 'দেবদাস' আলোর মুখ দেখবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডকে নিয়ে চাষী সেন্সর বোর্ডের আপীল বিভাগের দ্বারস্থ হন। এই বিভাগের সদস্যদের সদিচ্ছার সুবাদেই শেষ পর্যন্ত সব বিতর্কের অবসান ঘটেছে। দু'একদিনের মধ্যেই ছাড়পত্র পাবে রঙিন 'দেবদাস'। এজন্য আপীল বিভাগের সদস্যদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন চাষী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'এখন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির মুক্তি নিয়ে ভাবছি আমরা।'
জানা গেছে, 'দেবদাস' মুক্তির সময় নির্ধারণ করে ফেলেছেন নির্মাতারা। একসঙ্গে দুই উৎসব কোরবানির ঈদ ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে মুক্তি দেওয়া হবে ছবিটি। এ প্রসঙ্গে চাষী নজরুল ইসলাম বলেন, "এত কাছাকাছি সময়ে দুটি বড় উৎসব সচরাচর পাওয়া যায় না। তাই 'দেবদাস' মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা এই সময়কে বেছে নিয়েছি।"
আশির দশকে বুলবুল আহমেদ, কবরী, আনোয়ারা ও রহমানকে নিয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে 'দেবদাস' ছবিটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। ওটা ছিল সাদাকালো। আবারও একই কাহিনী নিয়ে ছবি তৈরি করলেন তিনি। এবারের ছবিটি রঙিন। শাকিব খান, মৌসুমী, অপু বিশ্বাস ও শহীদুজ্জামান সেলিমকে নিয়ে 'দেবদাস' ছবির দৃশ্যধারণ শুরু হয় ২০১০ সালে। শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, 'অযৌক্তিক কারণে এতদিন আটকে ছিল 'দেবদাস'। এতে চুনিলালের গায়ে 'মুজিব কোট' থাকার কারণে ছবিটি আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মুজিব কোটের রঙ হলো কালো। আমি পরেছিলাম লাল কোটি। তবুও অযৌক্তিক কারণে বাক্সবন্দি ছিল 'দেবদাস'। এমন একটি ভালো ছবি এতদিন বাক্সবন্দি ছিল, এটা ভাবতেই অবাক লাগে!'
চন্দ্রমুখী চরিত্রের অভিনেত্রী মৌসুমী বলেন, 'শুনলাম দেবদাসের সব ঝামেলা মিটে গেছে। এখন আর ছবিটি মুক্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকল না। 'দেবদাস' অসম্ভব সুন্দর একটি ছবি।'
'দেবদাস' চরিত্রে অভিনয়ের পর শাকিব খান বলেছেন, 'আমার এক যুগের ক্যারিয়ারে এমন ছবি খুব কমই করা হয়েছে। এখানে আমি দেবদাসের ভূমিকায় অভিনয় করেছি। সচরাচর আমি যে ধাঁচের ছবিতে অভিনয় করি, তার থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ছিল এ চরিত্রটি। তার পরও পরিচালকের সহযোগিতায় চেষ্টা করেছি নিজের সেরাটা দিতে।'
পার্বতী চরিত্রের অভিনয়শিল্পী অপু বিশ্বাস বলেন, "শরৎচন্দ্রের 'দেবদাস' উপন্যাসটি পড়েছি অনেক আগে। বলিউডে শাহরুখ খান, মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের 'দেবদাস' দেখেছি, কখনো ভাবিনি এমন গল্পের ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাবো। আশা করছি, ভক্তদের অনেকদিন পর একটি ভালো ছবি উপহার দিতে পারব।'

শাকিব খানের একযুগ পূর্ণ


নাম্বার ওয়ান নায়ক শাকিব খানের অভিনয়ের একযুগ পূর্ণ হয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২৮শে মে মুক্তি পেয়েছিল শাকিব খান অভিনীত প্রথম ছবি ‘অনন্ত ভালবাসা’। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত এ ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমীর ছোট বোন ইরিন। যদিও শাকিব খান প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আফতাব খান টুলু পরিচালিত ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’ ছবির মাধ্যমে। এ ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন কারিশমা শেখ। ছবির প্রযোজক ছিলেন রফিকুল ইসলাম। কিন্তু তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি হওয়ার গৌরব অর্জন করে কুদ্দুসুর রহমান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালবাসা’। ছবিতে তার নাম ছিল ‘মশাল’। এ ছবির ডাবিংয়ের সময় জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল শরীফ পরিচালক সোহানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন, এই ছেলে সিরিয়াস থাকলে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে। ছবি হিসেবে ‘অনন্ত ভালবাসা’ খুব একটা সফল না হলেও নায়ক হিসেবে শাকিব খান সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বী সকল নায়কের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান। আজ শাকিব খান চলচ্চিত্রের ওয়ান এন্ড অনলি নায়ক। পুরো ইন্ডাস্ট্রি একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন আপন ক্যারিশমায়। দেখতে দেখতে চলতি বছরের ২৮শে মে অভিনয়ের একযুগ পূর্ণ করেন তিনি। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যা ১৬৪। শুক্রবার মুক্তি পাবে ১৬৫তম ছবি ‘মাটির ঠিকানা’। ২০০৭ সালের ১লা জানুয়ারি শাহিন-সুমন পরিচালিত ‘জমজ’ ছবির মাধ্যমে শাকিব খান একশত ছবিতে অভিনয়ের রেকর্ড স্পর্শ করেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নায়ক হিসেবে রেকর্ডসংখ্যক পারিশ্রমিকের অধিকারী শাকিব খান সর্বশেষ চমক সৃষ্টি করেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে। চার বছর সাধারণ সম্পাদক এবং চার বছর সভাপতি হিসেবে সমিতির দায়িত্ব পালনকারী অভিজ্ঞ অভিনেতা মিজু আহমেদকে পরাজিত করে তার জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত প্রমাণ দেন। এমন একটি চমৎকার সময়ে অভিনয়ের একযুগ পূর্ণ করলেন শাকিব খান। তার এ সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ঘনিষ্ঠজনেরা একটি উৎসবের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সহসাই একটি উৎসব কমিটি গঠন করা হবে। তারপর উৎসব নিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। সম্ভবত এফডিসির অভ্যন্তরেই আয়োজন করা হবে এই একযুগ পূর্তি উৎসব। চলচ্চিত্র শিল্পের সকল শাখার নেতাকর্মীদের নিয়েই দিনব্যাপী উৎসব হবে বলে শাকিব খানের ঘনিষ্ঠজনেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শাকিব খান-মিশা সওদাগর পরিষদের প্যানেল পরিচিতি : চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ২০শে মে


চলচ্চিত্র শিল্পীদের সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন আগামী ২০শে মে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দু’টি প্যানেলের মধ্যে। একটি প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শাকিব খান ও মিশা সওদরগার, অন্যটির মিজু আহমেদ ও ড্যানি সিডাক। ২৮শে এপ্রিল বৃহস্পতিবার গুলশানের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় বেশ জাঁকজমকভাবে শাকিব খান-মিশা সওদাগর পরিষদের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিকদের সামনে প্যানেল পরিচিতি তুলে ধরেন চলচ্চিত্রের দুই কিংবদন্তি তারকা উজ্জল ও রোজিনা। চলচ্চিত্রের গৌরবময় ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে শিল্পীদের মর্যাদা সমন্নত রাখা লক্ষ্যে স্লোগানকে সামনে রেখে শাকিব-মিশা পরিষদের হয়ে যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন- সভাপতি-শাকিব খান, সহ-সভাপতি সুচরিতা ও মৌসুমী, সাধারণ সম্পাদক মিশা সওদাগর, সহ-সাধারণ সম্পাদক শিবা শানু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌস, সাংগঠনিক সম্পাদক আমির, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ডন, কোষাধ্যক্ষ আবদুল্লাহ সাকি, প্রচার প্রকাশনা ও দপ্তর সম্পাদক লাবু আহমেদ। কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আহমেদ শরীফ, আলী রাজ, বাপ্পারাজ, ওমর সানি, পূর্ণিমা, সাহারা, নিপুণ, রিনা খান, ইলিয়াস কোবরা, মর্জিনা ও আজাদ খান। প্যানেল ঘোষণার পূর্বে সমর্থন জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন, সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সহকারী সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান লিটন, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব এফআই মানিক, বিশিষ্ট দুই চিত্র তারকা উজ্জল ও রোজিনা এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক আহমদ জামান চৌধুরী। প্রার্থীদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন সুচরিতা, মৌসুমী, ফেরদৌস, মিশা সওদাগর ও শাকিব খান। অতীতে পরলোকগত সকল শিল্পী কলা, কুশলীদের আত্মার মাগফিরাত কামনার জন্য এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্যানেল পরিচিতি। মিশা সওদাগর ও মোহাম্মদ হোসেন জেমীর সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত এই প্যানেল পরিচিত অনুষ্ঠানে শাকিব খান-মিশা সওদাগর পরিষদের পক্ষ থেকে শিল্পীদের জন্য বেশ কিছু অঙ্গীকারনামা তুলে ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে (১) চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভবনকে দোতলা করা হবে, সেখানে সব আধুনিক আসবাবপত্র ও সাজসজ্জা থাকবে। (২) যে সব শিল্পী অসুস্থ অবস্থায় কর্ম থেকে বিরত তাদের চিকিৎসার জন্য দাতব্য ক্লিনিকের ব্যবস্থা করা, (৩) জুনিয়র শিল্পীরা যাতে ন্যায্য পারিশ্রমিক পান সে ব্যবস্থা করা, (৪) দুস্থ শিল্পীদের এককালীন ভাতা হিসেবে ২০ লাখ টাকা বিতরণ করা, (৫) প্রয়াত প্রবীণ ব্যক্তিত্বদের নামে বিএফডিসি’র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন ফ্লোর ও স্পটের নামকরণের ব্যবস্থা করা, (৬) চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ফান্ডে এককালীন ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করা, (৭) শিল্পীদের সকল কাজে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা এবং জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন উৎসবমুখর দিনগুলোতে সেমিনার, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে সভাপতি প্রার্থী শাকিব খান বলেন, আপনারা জানেন, চলচ্চিত্র শিল্প বর্তমানে নানাবিধ সমস্যার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। আমাদের নিরাপত্তা ও সম্মান বিভিন্নভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমাদের প্রায় চারশত জুনিয়র শিল্পীদের জীবন ধারণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা যারা প্রতিষ্ঠিত কেবল তারাই শুধু সুখে দিন যাপন করবো আর আমাদের সহশিল্পীরা অবহেলিত হয়ে মারা যাবে এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। শাকিব খান বলেন, আমরা এই সব শিল্পীর পাশে থাকা, আমাদের হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনা এবং চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকে শক্তিশালী করার জন্য আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। এখন বিচারের ভার সমিতির সাধারণ সদস্যদের উপর। সম্মানিত সদস্যরা যদি আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন তাহলে আমরা তাদের জন্য, পুরো শিল্পী সমাজের জন্য আমাদের দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করবো, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকে একটা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করবো। প্রিয়দর্শিনী চিত্র তারকা মৌসুমী বলেন, একজন শিল্পী হিসেবে আমি মনে প্রাণে চাই চলচ্চিত্রের সব শিল্পী সুখে শান্তিতে থাকুক। শিল্পীদের অসহায়ত্ব দূর করার জন্য আমরা এক প্লাটফরমে দাঁড়িয়েছি। আমার বিশ্বাস, আমাদের প্যানেল যদি সাধারণ শিল্পীদের সমর্থন পায়, তাদের রায়ে নির্বাচিত হয় তাহলে আমরা তাদের জন্য সবকিছু করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবো এবং ইনশাল্লাহ সফল হবো।

শাকিব-অপু জুটির ‘মনের জ্বালা’র বাম্পার সেল


দীর্ঘদিন পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান এবং অপু বিশ্বাস জুটি অভিনীত কোন ছবি। ‘মনের জ্বালা’ নামের এ ছবিটি মুক্তির প্রথম দু’দিনেই দর্শক লুফে নিয়েছে বেশ। একজন বুকিং এজেন্ট সূত্রে জানা যায়, শাকিব খান এই সময়ের দর্শকদের একমাত্র ভাল লাগার নায়ক। অনেকদিন ধরে তার অভিনীত ছবি মুক্তি না পাওয়ায়-দর্শক প্রেক্ষাগ্রহে আসাই বন্ধ করে দিয়েছিল। অনেকদিন পর তার ছবি মুক্তি পাওয়ায় দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েছে প্রেক্ষাগৃহে। আর তাই ছবিটির বাম্পার সেল যাচ্ছে এ কারণে। তাপসী ঠাকুরের প্রযোজনায় ‘মনের জ্বালা’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন মালেক আফসারী। ছবিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার সর্বশেষ ছবি মুক্তি পেয়েছে ‘উল্টা পাল্টা সিক্সটি নাইন’। এরপর প্রায় অনেকদিন পর বলা যায়, আমার নির্মিত কোন ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। সেইসঙ্গে শাকিব খানেরও একটু প্রেক্ষাগৃহ বিরতি ছিল। তাই সবমিলিয়ে সবার বিরতি দর্শক লুফে নিয়েছে বেশ। ছবিটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, আফসারী ভাই গুণী পরিচালক। তার পরিচালনায় বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ‘মনের জ্বালা’ ছবিটিতে কাজ করেছি। ছবিটি আসলেই বেশ ভাল হয়েছে। প্রযোজক তার অর্থ খরচে কোন কার্পণ্য করেনি। এছাড়া সমপ্রতি বিশ্বকাপ খেলার কারণে এমনিতেই কোন ছবি মুক্তি পায়নি। তাই এই সবকিছুর বিরতির পরবর্তী ভাল কিছুর সঙ্গ-ই সবার মাঝে আলাদা ফিলিংস এনে দিয়েছে। অপু বলেন, শাকিব খানের সঙ্গে আমার জুটির বেশির ভাগ ছবিই দর্শক দেখেছে হুমড়ি খেয়ে। এখন এই ছবিটিও দেখছে। আশা করছি এই ছবিটি বছরের আলোচিত একটি ছবি হবে।

বড়পর্দায় শখের অভিষেক ২২ অক্টোবর

জনপ্রিয় মডেল তারকা শখের নায়িকা হিসেবে অভিষেক হচ্ছে ২২ অক্টোবর। এদিন মুক্তি পাবে শখ অভিনীত প্রথম ছবি 'বলোনা তুমি আমার'। এমবি মানিক পরিচালিত এই ছবিতে শখের নায়ক শাকিব খান। অপূর্ব কথাচিত্রের ব্যানারে নির্মিত এই ছবিটি শুরু হয়েছিল 'তোমাকে ছাড়া বাঁচাবো না' নামে। কিন্তু এই ছবি মুক্তি পাওয়ার আগেই 'তুমি ছাড়া বাঁচি না' নামে একটি ছবি মুক্তি পাওয়ার কারণে অপূর্ব কথাচিত্রের কর্ণধার প্রযোজক খোরশেদ আলম ছবির নাম পরিবর্তন করে 'বলোনা তুমি আমার' রাখেন। আগামী ২২ অক্টোবর ছবিটি এই নামেই মুক্তি পাবে। ইতিমধ্যে ছবিটি চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র লাভ করেছে এবং মুক্তির জন্য চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির অনুমোদন পেয়েছে। ব্যাংককের মনোরম লোকেশনে চিত্রায়িত রোমান্টিক অ্যাকশন ছবি 'বলোনা তুমি আমার'-এ শাকিব খান ও শখের সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন নিরব, তমা মির্জা, মিশা সওদাগর, কাবিলাসহ অনেকেই। মডেল হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত শখকে নিয়ে ছবির প্রযোজক পরিচালক সবাই আশাবাদী।

অপুর সঙ্গে আর অভিনয় নয়: শাকিব

চিত্রনায়িকা অপুর সঙ্গে আর কোনো নতুন ছবিতে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছেন শাকিব খান।অপুর বিরুদ্ধে তিনি অপেশাদারি আচরণের অভিযোগ এনেছেন। শুক্রবার শাকিব তাঁর বাসায় সাংবাদিকদের কাছে নিজের এই মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। শাকিব বলেন, ‘অপু কাজের ব্যাপারে ইদানীং মোটেও মনোযোগী নন। তাই চলচ্চিত্রের কাজে এর প্রভাব পড়ছে। তা ছাড়া অন্য কোনো শিল্পীর সঙ্গে কাজ করলে অপু সেখানেও সমস্যা করছেন। অপুর সঙ্গে অনেক ছবিতে কাজ করেছি। দর্শকদের কাছে এখন এই জুটিকে একঘেয়ে মনে হচ্ছে। তাই অপুর সঙ্গে আর কোনো নতুন ছবিতে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

শাকিবের অভিযোগের ব্যাপারে অপু বলেন, ‘শাকিবের সঙ্গে আমার অনেক ছবি হয়েছে। এ কারণেই হয়তো শাকিব এখন আর আমার সঙ্গে কাজ করতে চাচ্ছেন না। তবে শাকিব কার সঙ্গে কাজ করবেন বা করবেন না—সেটা তাঁর ব্যাপার। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না।’

শাকিব-অপু জুটির প্রথম ছবি কোটি টাকার কাবিন। প্রথম ছবিই ছিল দারুণ ব্যবসাসফল। এর পর একে একে এই জুটির ৩৪টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় প্রতিটি ছবিই ব্যবসায়িক দিক থেকে সফল হয়েছে। এ মুহূর্তে শাকিব-অপু জুটির নির্মাণাধীন ছবি আটটি। হাতে আছে সাতটি নতুন চলচ্চিত্র। এগুলোর ভবিষ্যতের ব্যাপারে শাকিব বলেন, ‘নির্মাণাধীন ছবিগুলোর কাজ শেষ করব। কিন্তু নতুন কোনো ছবিতে অপুর সঙ্গে কাজ করব না।’ অপু বলেন, ‘নির্মাতারা চাইলে নতুন ছবিগুলোর জন্য নেওয়া পারিশ্রমিকের টাকা আমি ফেরত দেব।’ জানা গেছে, এবারের ঈদে এই জুটির পাঁচটি চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

'কিং খান' এর পারিশ্রমিক অর্ধকোটি টাকা


এবার ঈদেও শাকিব খানের সর্বাধিক ছবি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তাই আবারও তিনি নিজের সঙ্গে নিজের যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন। যদিওবা তার জন্য এ যুদ্ধ মোটেও নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই এমনটি ঘটছে। আর প্রতিবারই তিনি পার পেয়ে গেছেন আপন যোগ্যতায়। কিন্তু এই যুদ্ধের শেষ কোথায়? জবাবে শাকিব খান বলেন, 'আমিও তো এই চাই না। নিজের সঙ্গে নিজের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর ভালো লাগছে না। ব্যবসাসফল নায়ক হিসেবে আমি চাই আমার প্রতিটা ছবিই ব্যবসা করুক। কারণ কোটি টাকা লগি্ন করার পর একটি ছবি ব্যবসাসফল না হলে নিন্দুকেরা সেই ব্যর্থতার দায় আমার ওপর চাপাতে চায়। কিন্তু এক শাকিব খান আর কত ঘানি টানবে। আমি আর কিছু পারি বা না পারি দর্শকদের সুস্থ ধারার ছবির মাধ্যমে হলে ফিরিয়ে এনেছি। আমি চাই নতুনরা ভালো করুক। শূন্যতা পূরণ হোক। সত্যিকার অর্থে আমাদের চলচ্চিত্রে ভালো অভিনেতা-অভিনেত্রী, প্রযোজক-পরিচালক, এমনকি টেকনিশিয়ানেরও সংকট রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে শাকিবের ছবি একের পর এক ব্যবসাসফল হলেও নানা ঘটনায় বিতর্কিতও হয়েছেন তিনি। যেমন প্রতিটি ছবিতে নায়িকা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তার পছন্দকে প্রাধান্য দিতে বাধ্য হন পরিচালকরা। সিডিউল ঘাপলার অভিযোগ তো আছেই। সঠিক সময়ে সেটে না আসাটা যেন তার রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আর ব্যক্তিজীবনে তার অনিয়মের কথাটা বাদই দিলাম। অন্যদিকে শাবনূরের সঙ্গে ছবি না করা, শুটিং স্পটে পূর্ণিমার সঙ্গে মনোমালিন্যসহ নানা ঘটনা তার ক্যারিয়ারে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নিজের পারিশ্রমিকও প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে চলেছেন। সম্প্রতি তিনি প্রতি ছবিতে নিজের পারিশ্রমিক অর্ধকোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার উচ্চাশার ঘোড়াটাও টগবগিয়ে দৌড়াচ্ছে। কিন্তু সে ঘোড়ার লাগাম নিজের নিয়ন্ত্রণে আছে তো! তাই সাবধান শাকিব খান। আপনি কিন্তু অনেক কিছুই দেখতে দেখতে বেড়ে উঠেছেন আমাদের চলচ্চিত্রে। একসময় যাদের ছবি দেখে আপনি চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেছিলেন, তাদের সবাইকে পিছু ফেলে আপনি এখন 'নাম্বার ওয়ান'। যার ফলশ্রুতিতে ঢালিউডে 'নাম্বার ওয়ান শাকিব খান' নামে একটি ছবিও নির্মিত হচ্ছে। ছবিটি পরিচালনা করছেন বদিউল আলম খোকন। ছবিটি প্রসঙ্গে শাকিব বলেন, ভালো বাজেটের ছবি হচ্ছে 'নাম্বার ওয়ান শাকিব খান'। ইতিমধ্যে ব্যাংককে খুব ভালো শুটিং করেছি আমরা। শুটিং বেশ ভালো হয়েছে। নির্দ্বিধায় বলতে পারি এ ছবিটি বলিউডের ছবির মতোই হবে।


যা হোক, আগের কথায়ই ফিরে আসি। এখনই শাকিব খানের সাবধান হওয়া প্রয়োজন। কারণ তার একটু অতীত মনে রাখা দরকার। কিভাবে তিনি নিজের মেধা, পরিশ্রম ও যোগ্যতা দিয়ে ঢালিউডের এক নাম্বার নায়ক হয়েছেন। প্রয়াত নায়ক মান্না জীবিত অবস্থায় দেখে গেছেন তার পারিশ্রমিক টপকিয়ে শাকিব খান কিভাবে ব্যবসাসফল হচ্ছিলেন। আপন যোগ্যতায় শাকিব খান এখনও নিজের অবস্থান অটুট রেখেছেন। এ বিষয়গুলো শাকিব খানের মনে আছে তো! নইলে এমনি করেই আপনার চোখের সামনেই অন্য কেউ টপকিয়ে যাবে আপনাকে। পাশাপাশি বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আপনার সুদর্শন শরীরে মেদ জমছে বৈকি! এত সাবধানতার কথা বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করে শাকিব খান বলেন, 'সবাই বলেন, আমি বেশি পারিশ্রমিক নেই। প্রথম কথা হল, আমার ছবি ব্যবসাসফল না হলে কি প্রযোজকরা এমনিতেই টাকা লগি্ন করছেন! ইতিমধ্যে আমার কয়েক বছরের সিডিউল বুকিং দিয়ে রাখছেন প্রযোজকরা। আবার আমি সিডিউল দিতে না পারলে নানামুখী হুমকি ও কুৎসার সম্মুখীন হতে হয়। আমিও একজন রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। এভাবে আর কতদিন। বলিউডের নায়কদের মতো বছরে কয়েকটি ছবি করে ইন্ডাস্ট্রিকে চাঙ্গা রাখতে চাই আমিও। সেক্ষেত্রে উচ্চ পারিশ্রমিক বোঝা মনে হবে না। কিন্তু আমাদের দেশে সে সুযোগ কই! এখন তো আমার ব্যক্তিজীবন বলতে কিছুই নেই। নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিতে হচ্ছে ঢালিউডের জন্য। অথচ সবাই আমার উচ্চ পারিশ্রমিকের কথাই বলেন। আমার পরিশ্রম বা আত্দত্যাগের কথা কেউ একবারও ভাবেন না। যারা আমাকে নিয়ে এত কুৎসা রটায় তারা অন্য কাউকে নিয়ে ছবি করলেইতো পারে। সারাদিন শুটিং করতে করতে ব্যক্তিজীবন ব্যাহত হওয়ায় এখন নিয়মিত শরীরচর্চা করার সময় পাই না। এমনকি খাওয়া-দাওয়া বা বিশ্রামের ফুরসত পাই না। কাজেই অনিয়ম তো হবেই। এবার নায়িকাদের প্রসঙ্গে বলি- বর্তমান সময়ের ঢালিউডের সব নায়িকার সঙ্গে আমি কাজ করি। নায়িকা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিচালকদের আমি কখনও আমার পছন্দ চাপিয়ে দেই না। পরিচালকরা জানতে চাইলে হয়তো আমি কয়েকজন নায়িকার নাম বলি। ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দ বা অপছন্দের কোনও নায়িকা নেই ইন্ডাস্ট্রিতে। আর আমি নিজ ইচ্ছায় কখনও চাই না আমার শুটিংয়ের সিডিউলে সমস্যা হোক। আমি তো চাই তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করতে। কিন্তু শুটিং স্পটে কোনও একটা ছোটখাটো সমস্যা হলেও শুটিং পিছিয়ে যায়। তাই পরে অন্য কাউকে দেয়া সিডিউলেও সমস্যা দেখা দেয়। সিডিউল সমস্যা যে শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জন্য হয়, তা ঠিক নয়। প্রসঙ্গক্রমে শাকিব আরও বলেন, বর্তমানে নতুনরা ভালো করছেন। নতুন যারা চলচ্চিত্রে এসেছেন আমি তাদের সাফল্য কামনা করি। কারণ আমি একা বাংলা ছবির জন্য আর কতদিন লড়াই করব। আমি চাই ঢালিউডে আরও শাকিব খান আসুক। এতে করে এদেশের সিনেমা সমৃদ্ধ হবে।


নারায়ণগঞ্জের ছেলে শাকিব খান ঢালিউডে পদার্পণ করেন রফিকুল ইসলামের 'সবাই তো সুখী হতে চায়' ছবির মাধ্যমে। কিন্তু তিনি শাকিব খান নামে আবির্ভূত হন সোহানুর রহমান সোহানের 'অনন্ত ভালোবাসা' ছবির মাধ্যমে। এটা ২০০৩ সালের ঘটনা। তারপর একটানা অ্যাকশন ছবিতে অভিনয় করলেও ২০০৫ সালে হাসিবুল ইসলাম মিজানের 'আমার স্বপ্ন তুমি'র মাধ্যমে রোমান্টিক ছবিতে প্রবেশ করেন তিনি। বাকিটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। গত কয়েক বছরে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সাফল্যের রেকর্ড গড়েছেন। এবার ঈদে শাকিব খান অভিনীত যেসব ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তা হল 'মায়ের হাতে বেহেশতের চাবি', 'জান আমার জান', 'সবার উপরে তুমি', 'বলো না কবুল', 'ও সাথী রে', 'আমার প্রাণের প্রিয়া' ও 'সাহেব নামে গোলাম'। কাজ শেষ করেছেন 'টাকার চেয়ে প্রেম বড়', 'ভালবাসা দিবি কিনা বল' ছবির। বর্তমানে তিনি শুটিং করছেন 'ভালবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না', 'এই মন তোমাকে চায়' ইত্যাদি ছবির।

নিষেধের বেড়াজালে শাকিব খান

প্রতিনিয়তই নিষিদ্ধের বেড়াজালে আটকা থাকছেন নাম্বার ওয়ান নায়ক শাকিব খান। তার অভিনীত কোন না কোন ছবি নানা কারণে নিষিদ্ধ করে রাখছে চলচ্চিত্র সেন্সরবোর্ড। সমপ্রতি শাকিব খান অভিনীত, নুর হোসেন বলাই পরিচালিত 'অপমানের জ্বালা' ছবিটি বিভিন্ন কারণে ছাড়পত্র প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সেন্সরবোর্ড। এই ছবিতে শাকিব খানের নায়িকা কলি। বেশ কিছু অভিযুক্ত ছবিতে অভিনয়ের অভিযোগ রয়েছে কলির বিরুদ্ধে। অবশ্য তখন শাকিব খান নিজেও অসংখ্য অভিযুক্ত ছবিতে অভিনয় করেছেন। শাকিব খান অভিনীত আরও একটি ছবি দীর্ঘদিন ধরে সেন্সরবোর্ডে নিষিদ্ধ হয়ে আছে। ছবির নাম 'প্রেম মানে না বাধা'। সাফি-ইকবাল পরিচালিত এই ছবিতে শাকিবের নায়িকা অপু বিশ্বাস। এর আগে বেশ ক'দিন ধরে নিষিদ্ধ হয়েছিল শাহিন-সুমন পরিচালিত 'বিয়েবাড়ী'। তবে শাকিব-রুমানা অভিনীত এই ছবিটি সমপ্রতি কর্তন সাপেক্ষে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং আগামী ৫ই জুন মুক্তি পাবে। শাকিব অভিনীত আরেক ছবি 'মিয়াবাড়ীর চাকর' দীর্ঘদিন ধরে নকলের অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়েছিল। অশ্ল্লীলতার যুগে শাকিব অভিনীত নিষিদ্ধ ছবির সংখ্যা অগণিত। সুস্থ-অসুস্থ দুই যুগেই শাকিব খানের ব্যস্ততা এবং নিয়মিত ছবি নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি চলচ্চিত্রে ব্যাপকভাবে অলোচিত হচ্ছে।