Showing posts with label Moushumi. Show all posts
Showing posts with label Moushumi. Show all posts

পহেলা বৈশাখে মৌসুমী-ফেরদৌস-ঋতুপর্ণা

ফেরদৌস-মৌসুমী-ঋতুপর্ণা অভিনীত 'এক কাপ চা' ছবিটি আসন্ন ভালোবাসা দিবসে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণবশত ছবিটি মুক্তি পায়নি। তবে পহেলা বৈশাখে ছবিটি মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি ছবির প্রযোজক-পরিচালক এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাস দুয়েক আগে ভারতের চেন্নাইয়ের প্রাসাদ ল্যাবে ছবির এডিটিং, পোস্ট প্রোডাকশনসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের পরিচালায় ছবিটি প্রযোজনা করেছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস নিজেই। ছবির কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন বাসু চ্যাটার্জি। 'এক কাপ চা' মুক্তি প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, ছবির যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফেরদৌস ভাই পহেলা বৈশাখে ছবিটি মুক্তি দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেদিক লক্ষ্য রেখেই প্রেক্ষাগৃহের মালিকদের সঙ্গে আমাদের কথা চলছে। তিনি আরো বলেন, ২০১০ সালের ১৫ অক্টোবর এ ছবির শুটিং শুরু হয়েছিল। দেড় বছর পর গত মে মাসে ছবির কাজ সম্পন্ন হয়। শুরু থেকেই নানা কৌশলে ছবির প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাই ছবিটি নিয়ে এরই মধ্যে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। 'এক কাপ চা' ছবিতে ফেরদৌসকে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক এবং মৌসুমীকে গ্রন্থাগারিক হিসেবে দেখানো হবে। এছাড়াও ছবির একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওপার বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ফেরদৌস-মৌসুমী-ঋতুপর্ণা ছাড়াও ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন- নায়করাজ রাজ্জাক, আলমগীর, হুমায়ুন ফরীদি, ওমর সানী, নিপুণ, ইমন, নিরব, মীর সাবি্বর, অাঁখি আলমগীর, অমল বোস, তুষার খান, শহিদুল ইসলাম সাচ্চু, এজাজুল ইসলাম, মুনিরা মিঠুসহ এক ঝাঁক তারকাশিল্পী।

'দেবদাস' নিয়ে গপ্পো

ভালো চলচ্চিত্র নিয়ে বরাবরই সেন্সর বোর্ড একটু বেশি মাতামাতি করে। তবে 'দেবদাস'-এর বেলায় এর মাত্রাটা যেন একটু বেশিই ছিল। চাষী নজরুল ইসলামের ছবি বলেই হয়তো এমনটা হয়েছে! কিছু অযৌক্তিক কারণে প্রায় ৯ মাস আটকে রাখা হয়েছিল রঙিন 'দেবদাস'কে। তবে আশার কথা হলো, মেঘ কেটে গেছে। আলোর দেখা পেয়েছে ছবিটি। অবশেষে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাচ্ছে নতুন 'দেবদাস'। গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চাষী নজরুল ইসলামের 'দেবদাস' ছবিটি সেন্সর বোর্ডে জমা পড়েছিল। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে অন্যান্য ছবির ভিড়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই ছবি দেখার জন্য সময় বের করতে পারেনি। অবশেষে ১৪ দিন অপেক্ষার পর ১৯ জানুয়ারি বিকেলে বোর্ডের সদস্যরা ছবিটি দেখেন। এতে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও মৌসুমীর অভিনয়ের প্রশংসা করেন তারা। শুধু তা-ই নয়, অনেকদিন পর সবাই একটি ভালো ছবিও দেখলেন জানিয়ে পরিচালককে সাধুবাদ জানান। এজন্য চাষী বেশ উৎসাহ পেয়েছিলেন। ভেবেছিলেন বিনা কর্তনেই এটি ছাড়পত্র পাবে। কিন্তু তা আর হয়নি। হঠাৎ বোর্ডের কিছু সদস্য বাদ সাধেন। চুনিলাল চরিত্রের অভিনয়শিল্পীর পোশাককে কেন্দ্র করে আটকে যায় 'দেবদাস। এই চরিত্রে অভিনয় করেন শহীদুজ্জামান সেলিম। তার গায়ে থাকা রঙিন কোট নিয়ে আপত্তি তোলে সেন্সর বোর্ড। তাই দৃশ্যগুলো কর্তন না করা হলে 'দেবদাস' আলোর মুখ দেখবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডকে নিয়ে চাষী সেন্সর বোর্ডের আপীল বিভাগের দ্বারস্থ হন। এই বিভাগের সদস্যদের সদিচ্ছার সুবাদেই শেষ পর্যন্ত সব বিতর্কের অবসান ঘটেছে। দু'একদিনের মধ্যেই ছাড়পত্র পাবে রঙিন 'দেবদাস'। এজন্য আপীল বিভাগের সদস্যদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন চাষী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'এখন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির মুক্তি নিয়ে ভাবছি আমরা।'
জানা গেছে, 'দেবদাস' মুক্তির সময় নির্ধারণ করে ফেলেছেন নির্মাতারা। একসঙ্গে দুই উৎসব কোরবানির ঈদ ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে মুক্তি দেওয়া হবে ছবিটি। এ প্রসঙ্গে চাষী নজরুল ইসলাম বলেন, "এত কাছাকাছি সময়ে দুটি বড় উৎসব সচরাচর পাওয়া যায় না। তাই 'দেবদাস' মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা এই সময়কে বেছে নিয়েছি।"
আশির দশকে বুলবুল আহমেদ, কবরী, আনোয়ারা ও রহমানকে নিয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে 'দেবদাস' ছবিটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। ওটা ছিল সাদাকালো। আবারও একই কাহিনী নিয়ে ছবি তৈরি করলেন তিনি। এবারের ছবিটি রঙিন। শাকিব খান, মৌসুমী, অপু বিশ্বাস ও শহীদুজ্জামান সেলিমকে নিয়ে 'দেবদাস' ছবির দৃশ্যধারণ শুরু হয় ২০১০ সালে। শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, 'অযৌক্তিক কারণে এতদিন আটকে ছিল 'দেবদাস'। এতে চুনিলালের গায়ে 'মুজিব কোট' থাকার কারণে ছবিটি আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মুজিব কোটের রঙ হলো কালো। আমি পরেছিলাম লাল কোটি। তবুও অযৌক্তিক কারণে বাক্সবন্দি ছিল 'দেবদাস'। এমন একটি ভালো ছবি এতদিন বাক্সবন্দি ছিল, এটা ভাবতেই অবাক লাগে!'
চন্দ্রমুখী চরিত্রের অভিনেত্রী মৌসুমী বলেন, 'শুনলাম দেবদাসের সব ঝামেলা মিটে গেছে। এখন আর ছবিটি মুক্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকল না। 'দেবদাস' অসম্ভব সুন্দর একটি ছবি।'
'দেবদাস' চরিত্রে অভিনয়ের পর শাকিব খান বলেছেন, 'আমার এক যুগের ক্যারিয়ারে এমন ছবি খুব কমই করা হয়েছে। এখানে আমি দেবদাসের ভূমিকায় অভিনয় করেছি। সচরাচর আমি যে ধাঁচের ছবিতে অভিনয় করি, তার থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ছিল এ চরিত্রটি। তার পরও পরিচালকের সহযোগিতায় চেষ্টা করেছি নিজের সেরাটা দিতে।'
পার্বতী চরিত্রের অভিনয়শিল্পী অপু বিশ্বাস বলেন, "শরৎচন্দ্রের 'দেবদাস' উপন্যাসটি পড়েছি অনেক আগে। বলিউডে শাহরুখ খান, মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের 'দেবদাস' দেখেছি, কখনো ভাবিনি এমন গল্পের ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাবো। আশা করছি, ভক্তদের অনেকদিন পর একটি ভালো ছবি উপহার দিতে পারব।'

‘প্রজাপতি’ মুক্তি নিয়ে জটিলতায়

মুক্তি নিয়ে জটিলতায় পড়েছে শ্রোতা-দর্শক কাঙ্ক্ষিত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘প্রজাপতি’। কথা ছিল ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে একযোগে আসন্ন ঈদে মুক্তি পাচ্ছে চলচ্চিত্রটি। হতাশার খবর হলো, চলচ্চিত্রটি এই ঈদে মুক্তি পেলেও সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে মাত্র দু’টি প্রেক্ষাগৃহে। একটি সিনেপ্লেক্স, অন্যটি বলাকা। প্রিন্ট হওয়ার কথা ছিল অন্তত এক ডজন। সেখানে প্রিন্ট হয়েছে মাত্র তিনটি। এর মধ্যে দু’টি প্রিন্ট চলবে বসুন্ধরাস্থ স্টার সিনেপ্লেক্সের দু’টি হলে আর বাকিটি চলবে নিউমার্কেটস্থ বলাকা প্রেক্ষাগৃহে। অন্যদিকে কথা ছিল ‘প্রজাপতি’র পরিবেশনায় থাকবে চলচ্চিত্রাঙ্গনের অন্যতম পরিবেশক মনোয়ার হোসেন ডিপজলের ‘অমি-বনি কথাচিত্র’। শেষ পর্যন্ত অমি-বনিও সরে দাঁড়িয়েছে পরিবেশনার দায়িত্ব থেকে। মুক্তির আগেই গান ও গল্প নিয়ে ব্যাপক আলোচিত এ চলচ্চিত্রটি এরই মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছে দর্শক চাহিদার বিপরীতে। তৈরি হয়েছে নানামাত্রিক জটিলতা। এ নিয়ে ব্যাপক বিপাকে পড়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় নির্মাতা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। এটি তার প্রথম চলচ্চিত্র। ‘প্রজাপতি’ নিয়ে এহেন জটিলতা প্রসঙ্গে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, জীবনের প্রথম চলচ্চিত্র ‘প্রজাপতি’। অনেক স্বপ্ন ছিল। সে হিসেবে পরিকল্পনা করে এগিয়েছি গেল দু’টি বছর। সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। এরই মধ্যে গান থেকে সফলতা পেয়েছি আকাশচুম্বী। এক সপ্তাহ আগেও সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। অথচ মুক্তির আগে আগে তীরে এসে তরীটা প্রায় ডুবতে বসেছে। এ নিয়ে ভীষণ মন খারাপ। রাজ আরও জানান, প্রজাপতির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিয়ে এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছিল এনটিভি। আর প্রযোজক ছিলেন এনায়েতুর রহমান বাপ্পী। সমপ্রতি এনায়েতুর রহমান বাপ্পী এনটিভি ছেড়ে গড়ে তোলেন আরেকটি নতুন স্যাটেলাইট টিভি স্টেশন চ্যানেল নাইন। এখন ‘প্রজাপতি’র প্রযোজক আর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্ব এবং অনুমোদন নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। মূলত এ কারণেই ‘প্রজাপতি’ ব্যাপক আকারে একযোগে সারাদেশে মুক্তি পাচ্ছে না। এদিকে প্রজাপতির নির্মাতা আরও বলেন, আমার হাতে যে তিনটি প্রিন্ট আছে সেটি দিয়ে আপাতত নিজ উদ্যোগে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দিচ্ছি। মুক্তি উপলক্ষে করছি না কোন অনাড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান। এ নিয়ে নতুন করে আর কিছু ভাবছি না। এর মধ্যে প্রযোজনা জটিলতা মিটে গেলে কিছু হবে, না হলে হবে না। এখন আমি আমার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে ভাবছি। আশা করছি শিগগিরই ঘোষণা দেবো।