Showing posts with label Opu Bishwas. Show all posts
Showing posts with label Opu Bishwas. Show all posts

আগে মাসে প্রতিদিন কাজ করতাম এখন একদিন করি

বেকারত্বের দুঃসহ যন্ত্রণা ভাগ করতে গিয়ে এক সময়ের ব্যস্ত এবং জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস তার এক ঘনিষ্ঠজনের কাছে আক্ষেপ করে বলেছেন, আগে মাসে প্রতিদিন কাজ করতাম, এখন একদিন করি। ব্যস্ততার তফাৎটাই এটা। বেশ কষ্টের সঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, আসলেই চলচ্চিত্রের মানুষকে বোঝা মুশকিল। ব্যস্ততা থাকলে চারপাশে কত না লোকজন ঘুর ঘুর করে। আর এখন কেউ একটা খোঁজ পর্যন্ত নেয় না। তবে স্বস্তির সঙ্গে অপু এও বলেছেন, কম সময়ে কাজও তো আর কম করলাম না। মাত্র ১০ বছরে ৫০টির বেশি ছবিতে অভিনয় করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। প্রশংসা, জনপ্রিয়তা, খ্যাতি- সবই পেয়েছি। সময়ের কারণে শুধু আমার একার নয়, অনেকেরই ব্যস্ততা কমে গেছে। আমি এটাকে স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়েছি। সময় হলে আবার ব্যস্ত হয়ে উঠবো। অপু বিশ্বাস বলেছেন, প্রতিদিনই ছবির অফার আসে, কিন্তু পছন্দ হয় না। কার সঙ্গে অভিনয় করবো? গল্প কোথায়? এই দুটো কথা ভেবে অফারগুলো গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তবে আমি ভাল আছি। পরিবারকে সময় দিতে পারছি। অনেকটা বছর তাদেরকে সময় দিতে পারিনি। হাতে যে ছবিগুলো আছে সেগুলোর কাজ শেষ করছি। বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেলিংও করছি। কাজ নিয়ে আমার কোন দুঃখ নেই। আমি ভাল আছি, বেশ আছি।

'দেবদাস' নিয়ে গপ্পো

ভালো চলচ্চিত্র নিয়ে বরাবরই সেন্সর বোর্ড একটু বেশি মাতামাতি করে। তবে 'দেবদাস'-এর বেলায় এর মাত্রাটা যেন একটু বেশিই ছিল। চাষী নজরুল ইসলামের ছবি বলেই হয়তো এমনটা হয়েছে! কিছু অযৌক্তিক কারণে প্রায় ৯ মাস আটকে রাখা হয়েছিল রঙিন 'দেবদাস'কে। তবে আশার কথা হলো, মেঘ কেটে গেছে। আলোর দেখা পেয়েছে ছবিটি। অবশেষে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাচ্ছে নতুন 'দেবদাস'। গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চাষী নজরুল ইসলামের 'দেবদাস' ছবিটি সেন্সর বোর্ডে জমা পড়েছিল। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে অন্যান্য ছবির ভিড়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ এই ছবি দেখার জন্য সময় বের করতে পারেনি। অবশেষে ১৪ দিন অপেক্ষার পর ১৯ জানুয়ারি বিকেলে বোর্ডের সদস্যরা ছবিটি দেখেন। এতে শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও মৌসুমীর অভিনয়ের প্রশংসা করেন তারা। শুধু তা-ই নয়, অনেকদিন পর সবাই একটি ভালো ছবিও দেখলেন জানিয়ে পরিচালককে সাধুবাদ জানান। এজন্য চাষী বেশ উৎসাহ পেয়েছিলেন। ভেবেছিলেন বিনা কর্তনেই এটি ছাড়পত্র পাবে। কিন্তু তা আর হয়নি। হঠাৎ বোর্ডের কিছু সদস্য বাদ সাধেন। চুনিলাল চরিত্রের অভিনয়শিল্পীর পোশাককে কেন্দ্র করে আটকে যায় 'দেবদাস। এই চরিত্রে অভিনয় করেন শহীদুজ্জামান সেলিম। তার গায়ে থাকা রঙিন কোট নিয়ে আপত্তি তোলে সেন্সর বোর্ড। তাই দৃশ্যগুলো কর্তন না করা হলে 'দেবদাস' আলোর মুখ দেখবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডকে নিয়ে চাষী সেন্সর বোর্ডের আপীল বিভাগের দ্বারস্থ হন। এই বিভাগের সদস্যদের সদিচ্ছার সুবাদেই শেষ পর্যন্ত সব বিতর্কের অবসান ঘটেছে। দু'একদিনের মধ্যেই ছাড়পত্র পাবে রঙিন 'দেবদাস'। এজন্য আপীল বিভাগের সদস্যদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন চাষী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'এখন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির মুক্তি নিয়ে ভাবছি আমরা।'
জানা গেছে, 'দেবদাস' মুক্তির সময় নির্ধারণ করে ফেলেছেন নির্মাতারা। একসঙ্গে দুই উৎসব কোরবানির ঈদ ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে মুক্তি দেওয়া হবে ছবিটি। এ প্রসঙ্গে চাষী নজরুল ইসলাম বলেন, "এত কাছাকাছি সময়ে দুটি বড় উৎসব সচরাচর পাওয়া যায় না। তাই 'দেবদাস' মুক্তি দেওয়ার জন্য আমরা এই সময়কে বেছে নিয়েছি।"
আশির দশকে বুলবুল আহমেদ, কবরী, আনোয়ারা ও রহমানকে নিয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে 'দেবদাস' ছবিটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। ওটা ছিল সাদাকালো। আবারও একই কাহিনী নিয়ে ছবি তৈরি করলেন তিনি। এবারের ছবিটি রঙিন। শাকিব খান, মৌসুমী, অপু বিশ্বাস ও শহীদুজ্জামান সেলিমকে নিয়ে 'দেবদাস' ছবির দৃশ্যধারণ শুরু হয় ২০১০ সালে। শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, 'অযৌক্তিক কারণে এতদিন আটকে ছিল 'দেবদাস'। এতে চুনিলালের গায়ে 'মুজিব কোট' থাকার কারণে ছবিটি আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মুজিব কোটের রঙ হলো কালো। আমি পরেছিলাম লাল কোটি। তবুও অযৌক্তিক কারণে বাক্সবন্দি ছিল 'দেবদাস'। এমন একটি ভালো ছবি এতদিন বাক্সবন্দি ছিল, এটা ভাবতেই অবাক লাগে!'
চন্দ্রমুখী চরিত্রের অভিনেত্রী মৌসুমী বলেন, 'শুনলাম দেবদাসের সব ঝামেলা মিটে গেছে। এখন আর ছবিটি মুক্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকল না। 'দেবদাস' অসম্ভব সুন্দর একটি ছবি।'
'দেবদাস' চরিত্রে অভিনয়ের পর শাকিব খান বলেছেন, 'আমার এক যুগের ক্যারিয়ারে এমন ছবি খুব কমই করা হয়েছে। এখানে আমি দেবদাসের ভূমিকায় অভিনয় করেছি। সচরাচর আমি যে ধাঁচের ছবিতে অভিনয় করি, তার থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ছিল এ চরিত্রটি। তার পরও পরিচালকের সহযোগিতায় চেষ্টা করেছি নিজের সেরাটা দিতে।'
পার্বতী চরিত্রের অভিনয়শিল্পী অপু বিশ্বাস বলেন, "শরৎচন্দ্রের 'দেবদাস' উপন্যাসটি পড়েছি অনেক আগে। বলিউডে শাহরুখ খান, মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের 'দেবদাস' দেখেছি, কখনো ভাবিনি এমন গল্পের ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাবো। আশা করছি, ভক্তদের অনেকদিন পর একটি ভালো ছবি উপহার দিতে পারব।'

শাকিব-অপু জুটির ‘মনের জ্বালা’র বাম্পার সেল


দীর্ঘদিন পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান এবং অপু বিশ্বাস জুটি অভিনীত কোন ছবি। ‘মনের জ্বালা’ নামের এ ছবিটি মুক্তির প্রথম দু’দিনেই দর্শক লুফে নিয়েছে বেশ। একজন বুকিং এজেন্ট সূত্রে জানা যায়, শাকিব খান এই সময়ের দর্শকদের একমাত্র ভাল লাগার নায়ক। অনেকদিন ধরে তার অভিনীত ছবি মুক্তি না পাওয়ায়-দর্শক প্রেক্ষাগ্রহে আসাই বন্ধ করে দিয়েছিল। অনেকদিন পর তার ছবি মুক্তি পাওয়ায় দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েছে প্রেক্ষাগৃহে। আর তাই ছবিটির বাম্পার সেল যাচ্ছে এ কারণে। তাপসী ঠাকুরের প্রযোজনায় ‘মনের জ্বালা’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন মালেক আফসারী। ছবিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার সর্বশেষ ছবি মুক্তি পেয়েছে ‘উল্টা পাল্টা সিক্সটি নাইন’। এরপর প্রায় অনেকদিন পর বলা যায়, আমার নির্মিত কোন ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। সেইসঙ্গে শাকিব খানেরও একটু প্রেক্ষাগৃহ বিরতি ছিল। তাই সবমিলিয়ে সবার বিরতি দর্শক লুফে নিয়েছে বেশ। ছবিটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, আফসারী ভাই গুণী পরিচালক। তার পরিচালনায় বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ‘মনের জ্বালা’ ছবিটিতে কাজ করেছি। ছবিটি আসলেই বেশ ভাল হয়েছে। প্রযোজক তার অর্থ খরচে কোন কার্পণ্য করেনি। এছাড়া সমপ্রতি বিশ্বকাপ খেলার কারণে এমনিতেই কোন ছবি মুক্তি পায়নি। তাই এই সবকিছুর বিরতির পরবর্তী ভাল কিছুর সঙ্গ-ই সবার মাঝে আলাদা ফিলিংস এনে দিয়েছে। অপু বলেন, শাকিব খানের সঙ্গে আমার জুটির বেশির ভাগ ছবিই দর্শক দেখেছে হুমড়ি খেয়ে। এখন এই ছবিটিও দেখছে। আশা করছি এই ছবিটি বছরের আলোচিত একটি ছবি হবে।

অপুর সঙ্গে আর অভিনয় নয়: শাকিব

চিত্রনায়িকা অপুর সঙ্গে আর কোনো নতুন ছবিতে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছেন শাকিব খান।অপুর বিরুদ্ধে তিনি অপেশাদারি আচরণের অভিযোগ এনেছেন। শুক্রবার শাকিব তাঁর বাসায় সাংবাদিকদের কাছে নিজের এই মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। শাকিব বলেন, ‘অপু কাজের ব্যাপারে ইদানীং মোটেও মনোযোগী নন। তাই চলচ্চিত্রের কাজে এর প্রভাব পড়ছে। তা ছাড়া অন্য কোনো শিল্পীর সঙ্গে কাজ করলে অপু সেখানেও সমস্যা করছেন। অপুর সঙ্গে অনেক ছবিতে কাজ করেছি। দর্শকদের কাছে এখন এই জুটিকে একঘেয়ে মনে হচ্ছে। তাই অপুর সঙ্গে আর কোনো নতুন ছবিতে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

শাকিবের অভিযোগের ব্যাপারে অপু বলেন, ‘শাকিবের সঙ্গে আমার অনেক ছবি হয়েছে। এ কারণেই হয়তো শাকিব এখন আর আমার সঙ্গে কাজ করতে চাচ্ছেন না। তবে শাকিব কার সঙ্গে কাজ করবেন বা করবেন না—সেটা তাঁর ব্যাপার। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না।’

শাকিব-অপু জুটির প্রথম ছবি কোটি টাকার কাবিন। প্রথম ছবিই ছিল দারুণ ব্যবসাসফল। এর পর একে একে এই জুটির ৩৪টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় প্রতিটি ছবিই ব্যবসায়িক দিক থেকে সফল হয়েছে। এ মুহূর্তে শাকিব-অপু জুটির নির্মাণাধীন ছবি আটটি। হাতে আছে সাতটি নতুন চলচ্চিত্র। এগুলোর ভবিষ্যতের ব্যাপারে শাকিব বলেন, ‘নির্মাণাধীন ছবিগুলোর কাজ শেষ করব। কিন্তু নতুন কোনো ছবিতে অপুর সঙ্গে কাজ করব না।’ অপু বলেন, ‘নির্মাতারা চাইলে নতুন ছবিগুলোর জন্য নেওয়া পারিশ্রমিকের টাকা আমি ফেরত দেব।’ জানা গেছে, এবারের ঈদে এই জুটির পাঁচটি চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।